[SSC] বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ৭ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীলঃ ০১

প্রতিযােগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মি, তাইজুল জেলা পর্যায়ের একজন অফিসার হিসেবে নিয়ােগপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি প্রদান, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ তার বিভাগের ওপর নির্ভর করে।

ক. বাংলাদেশে জেলা পরিষদের সংখ্যা কতটি?
খ. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বােঝ?
ঘ. “উদ্দীপকে নির্দেশিত বিভাগের স্বাধীনতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
 

ক) বাংলাদেশে জেলা পরিষদের সংখ্যা ৬১টি। 

খ) যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকরা প্রত্যক্ষ বা সরাসরিভাবে শাসনকাজ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযােগ পায় তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে। প্রাচীন গ্রিসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রগুলােতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর ধার্য, বিচারকাজ পরিচালনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করত। বর্তমানে বাংলাদেশেও সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভােটে নির্বাচিত হন। যে কারণে বাংলাদেশেও প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র পরিলক্ষিত হয়। 

গ) স্থানীয় শাসন বলতে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের তথা বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা শাসনব্যবশ্বাকে বােঝায়। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এ ব্যবস্থায় স্থানীয় শাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিবৃন্দ সরকারের এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য। যেমন- বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বােঝায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়। প্রতিনিধিরা তাদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ক. আইনগত ভিত্তি, খ. নির্বাচিত সংস্থা, গ. সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযােগ, ঘ. করারােপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতান, ঙ. বিস্তৃত ও বহুমুখী কার্যাবলি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, চ. কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্ৰণযুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কার্য পরিচালনা করা। বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলাে হলাে- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ। 

ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত বিভাগটি তথা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক। মানুষের শেষ ভরসার আশ্রয়স্থল হলাে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বিচার বিভাগের কাজ হলাে দুষ্টের দমন করে নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বিচার বিভাগের ওপর আইন বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ তার স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করে । ফলে আইনের গতিপথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং ন্যায়বিচারে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। বিচার বিভাগ যদি তার কার্যক্রম পরিচালনায় পূর্ণ স্বাধীনতা ভােগ করতে পারত, তাহলে দেশের সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতাে। ফলে দেশে বিদ্যমান অপরাধগুলাে কমে যেত। দুর্নীতি, ঘুষ, খুন, গুম, ধর্ষণ, শিশু হত্যার মতাে জঘন্য অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরােধ করা যেত। আমাদের দেশের বিচার বিভাগ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা ভােগ করলেও এখনও পূর্ণ স্বাধীন নয়। তাই বিচার বিভাগ এখনও পূর্ণ শক্তিশালী নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্তই হলাে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। আর এ কারণে প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক। অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরই নির্ভর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা।

সৃজনশীলঃ ০২

জমির মিয়া একটি গ্রামের জনপ্রতিনিধি। দারিদ্র্য দূরীকরণ, পয়ঃনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রভৃতি তার দায়িত্ব। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে তিনি এসবের পাশাপাশি জমিসংক্রান্ত বিরােধ, স্থানীয়দের বিভিন্ন ঝগড়া ও নারীদের ওপর অবিচার ইত্যাদি ইস্যুতেও মধ্যস্থতা করছেন।

ক. মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান কে?
খ. উপজেলা পরিষদের গঠন বর্ণনা ক।
গ. রাজনৈতিক দল বলতে কী বােঝ? এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করো।
ঘ. জমির মিয়া কোন সংগঠনের প্রধান? তার কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো। 

ক) মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হচ্ছেন সচিব। 

খ) ১ জন চেয়ারম্যান, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান যার মধ্যে একজন নারী, উপজেলার এলাকাভুক্ত প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলার এলাকাভুক্ত পৌরসভার মেয়র ও সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত মহিলা সদস্যগণ নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয় । চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ জনগণের ভােটে সরাসরি নির্বাচিত হন। উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার দুটি পরিষদের সদস্যসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমসংখ্যক আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যারা উক্ত উপজেলার এলাকাভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের মহিলা বা কাউন্সিলরগণ কর্তৃক তাদের মধ্যে নির্বাচিত হবেন। 

গ) আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সাধারণ অর্থে, রাজনৈতিক দল বলতে একটি সংগঠিত নাগরিক সমষ্টিকে বােঝায়, যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে । এর সদস্যরা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পােষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলের কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যেমন- ১. রাজনৈতিক দল কিছু সংখ্যাক মানুষের একটি রাজনৈতিক সংগঠন; ২. এর সদস্যরা একইরূপ নীতি ও আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একত্রিত হয়; ৩. রাজনৈতিক দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে; ৪. জনমতের দিকে লক্ষ রেখে রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন ও প্রচার, নির্বাচনে প্রার্থী মনােনয়ন ও জয়লাভের চেষ্টা করে; ৫. রাজনৈতিক দলগুলাে নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে থাকে ইত্যাদি। 

ঘ) জমির মিয়া স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান। ইউনিয়ন পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, এর প্রধান কাজ হলাে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমােচন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা, পয়ঃনিষ্কাশনে সহায়তা করা, উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ, আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন কাজ করা, দারিদ্র্য, বিধবা ও নিঃস্ব মানুষকে সহায়তা করা । আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কর ধার্য ও আদায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ সকল প্রকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও সমন্বয় সাধন করা ইত্যাদি। উদ্দীপকের জমির মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান হিসেবে উপরিউক্ত কার্যসমূহ সম্পাদন করে থাকেন।

সৃজনশীলঃ ০৩

মিঃ মুজিৰ প্ৰানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ ভােটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার সংস্থার সদস্য সংখ্যা খুবই সীমিত। জনগণের কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রকল্প যেমন- বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, ড্রেইন নির্মাণ ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এমনকি তিনি সর্বদা নিজেকে রাস্তা মেরামত, বৃক্ষরােপণ এবং দরিদ্র ও মেধাবীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা নিতে ব্যস্ত রাখেন জনগণের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি বদ্ধপরিকর থাকেন।

ক. আইনসভা কী?
খ. নির্বাহী ক্ষমতা বলতে কী বােঝ?
গ. কোন ধরনের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে মি, মুজিব প্রতিনিধিত্ব করছেন? উঃ সংগঠনটির গঠন ও কার্যাবলি বর্ণনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর উল্লিখিত কার্যক্রমগুলাে উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট নয়? মতামত দাও। 

ক) আইনসভা হচ্ছে সরকারের তিনটি অঙ্গের অন্যতম অঙ্গ যেখানে রাস্টের আইন বিধিবদ্ধ হয়। 

খ) নির্বাহী ক্ষমতা বলতে নির্বাহী বিভাগীয় অর্থাৎ শাসন বিভাগের ক্ষমতাকে বােঝায়। সংবিধানে নির্বাহী বিভাগ বলতে কার্যত শাসন বিভাগকেই বােঝানাে হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, নির্বাহী ক্ষমতার অর্থ হলাে শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। 

গ) মি. মুজিব ইউনিয়ন পরিষদ নামক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান। ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় জনগণের প্রত্যক্ষ ভােটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে। প্রতিটি ইউনিয়ন থাকে ৯টি করে ওয়ার্ড। ১টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন নির্বাচিত সদস্য, প্রতি তিনটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মােট ৩ জন নির্বাচিত মহিলা সদস্য এবং একজন চেয়ারম্যানসহ মােট ১৩ জন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর। ইউনিয়ন পরিষদ নানাবিধ কার্যাবলি পরিচালনা করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ জনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ জনকল্যাণমূলক কাজ ও সেবা প্রদান করে থাকে। স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ তার অধীন কর্মচারীদের পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। এসব কার্যক্রম ছাড়াও ইউনিয়নবাসীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উন্নয়নসহ সরকারি সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। 

ঘ) উল্লিখিত কর্মকাণ্ডগুলাে উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পর্যাপ্ত বলে আমি মনে করি না। কেননা উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলির কেবল ক্ষুদ্র অংশই বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের জনকল্যাণমূলক কাজ ও সেবাসংক্রান্ত কার্যাবলি বর্ণিত হয়েছে। উক্ত কার্য ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ আরও নানাবিধ কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চৌকিদার ও দফাদার নিয়ােগ দেয়; অপরাধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা নিরসনে ভূমিকা পালন করে; গ্রাম্য আদালত পরিচালনা করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে কাজ করে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, গ্রাম পুলিশ ও পরিষদের অন্যান্য কর্মচারীদের পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করা, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রণয়ন ও প্রেরণ করা, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ইত্যাদি কাজও করে থাকে। যেখানে উদ্দীপকে এর বৃহৎ কার্যক্রমের সামান্যই প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং, আমি মনে করি উল্লিখিত কার্যক্রমগুলাে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

সৃজনশীলঃ ০৪

মিঃ বরকত এবং মি. রাফসান তাদের রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিষয়ে আলােচনা করছিলেন।
মি, বরকতঃ “আমাদের দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এ সরকারে প্রধানমন্ত্রীই সকল ক্ষমতার উৎস। তিনি একাধারে সংসদের প্রধান এবং সরকারপ্রধান । তিনিই মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ােগদান করেন। সমস্ত সরকারব্যবস্থা তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। তিনি মন্ত্রিসভার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডের জন্য সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন।"
মি. রাফসানঃ “আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এখানে রাষ্ট্রপতিই সরকারপ্রধান। তিনিই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। আইন ও চুক্তিগুলাে সারা দেশে প্রয়ােগ করা তার দায়িত্ব। তিনি রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়ােগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তবে সেসব নিয়ােগ চূড়ান্ত হতে সিনেটের অনুমােদন প্রয়ােজন হয়।" 

ক. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সংজ্ঞা দাও।
খ. সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সমস্ত সরকারব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরেই আবর্তিত হয় ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পদটি সংসদীয় ব্যবস্থার কীভাবে সংসদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে?
ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মের জন্য সংসদের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ থাকেন? আলােচনা কর।
 

ক) যেসব রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তিনি সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না, তখন তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে। 

খ) সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা অনেক ওপরে। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ না করে কোনাে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ােগ, সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান, দলীয় প্রধান এবং মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান। আর তাই সমস্ত শাসনব্যবস্থা তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. বরকতের রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান এবং এজাতীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীই সংসদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রধান নেতা। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দলের প্রধান হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এমনকি বিরােধী দলীয় প্রতিনিধিরাও সংসদে সহাবস্থান করেন। সংসদের সকলের অধিকার সংরক্ষণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ অধিবেশন আহ্বান, খগিত বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। একইসাথে, সংসদের বিবৃতি ও বক্তব্য প্রধানত প্রধানমন্ত্রীর নামেই পরিচালিত ও পরিবেশিত হয়। আর এভাবেই সংসদীয় ব্যবস্থার উল্লিখিত পদ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী সংসদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

ঘ) বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মের জন্য সংসদের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকেন। কেননা বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। আর সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সংসদ শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাকে তাদের কাজের জন্য সংসদের নিকট দায়ী থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকেন। সংসদ প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের ভালাে কাজের প্রশংসা করতে পারে, আবার খারাপ কাজের সমালােচনাও করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে শাসনসংক্রান্ত সকল কাজের জন্য সংসদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনােভাবের প্রতি মনােযােগ দিতে হয়। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকারের ওপর সংসদের নিয়ন্ত্রণ থাকে। সংসদ মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন বা অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সংসদের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। তাই প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের জন্য সংসদের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকেন।